রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

আয় বাড়েনি, খরচ বেড়েছে

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন রফিকুল ইসলাম। দুই সন্তান-স্ত্রীসহ পাঁচজনের পরিবার। নিজের ২৫ হাজার ও স্ত্রীর ১৫ হাজার টাকাসহ মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকায় খিলগাঁওয়ের বাগিচা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। বুয়ার বেতন, ময়লার বিল, বিদ্যুৎ বিল ও বাসা ভাড়া মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা চলে যায়। বাচ্চাদের স্কুল ও পড়ালেখার খরচ ১০ হাজার টাকা। ৫ হাজার টাকা নিজের হাত খরচ। বাকি টাকা বাজার ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যয় করেন। সাধারণত শনিবার রফিক দম্পতি বাজার করেন। কারণ শুক্রবার বেশিরভাগ মানুষ বাজার করে তাই দাম একটু চড়া থাকে। গতকাল শনিবার দাম কম পাওয়ার আশায় কারওয়ান বাজারে এসে হতাশায় ভেঙে পড়েন তারা।

রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বাজারের ব্যাগ দেখিয়ে বলেন, ‘দ্যাখেন, মনে হয় সোনা কিনতে এসেছি। মসুরের ডালের দাম বাড়তি দেখে অ্যাংকর ডাল কিনতে গেলাম। গত মাসে কিনেছি ৪৫ টাকায়; এখন বলছে ৭৫ টাকা। ঈদের আগে রসুন কিনেছি; শেষ হয়ে গেছে। ভেবেছিলাম রসুনের দাম তো বাড়বে না। সেখানেও আগুন; ১০০ টাকার রসুন এখন ১৭০ টাকা হয়ে গেছে। এক মাস আগের তুলনায় দেড় হাজার টাকার বাজার এখন আড়াই হাজার টাকায়ও সম্ভব নয়। ঘরে শিশু ও বৃদ্ধ মা আছেন। তাদের পুষ্টি তো দূরের কথা, আমার এই বেতনে দুই বেলা ভাতও খাওয়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো আয় বাড়েনি। খরচ বেড়েছে। শুনেছি বিদ্যুতের দাম বাড়বে। তাতে আরেক দফা সবকিছুর দাম বাড়বে। আমাদের কোনো উপায় নেই। সবকিছুর ওপর যা হবে তা হলো পেটে হাত পড়বে। এখনই তিনটা ডিম একটা পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে তিনজন খাচ্ছি। স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েদের দুধ খাওয়ানোও বন্ধ করে দিয়েছি বলা যায়।’

কাছের বাজারে না গিয়ে ‘বাগিচা’ থেকে এত দূরে কেন এলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কারওয়ান বাজারে খুচরা বাজারের তুলনায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা সাশ্রয় হয়। তাই এখানে আসি। খুচরা বাজারের কোনো বাপ-মা নেই। একেক দোকানে একেক দাম। কারওয়ান বাজার থেকে ৩০০ টাকায় যে সবজি কিনি সেটা এলাকার বাজারে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাই একসঙ্গে কিনি। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় সরিষার তেল কিনতে ভাঙানির দোকানে গেলাম। তারা বলল, লিটারপ্রতি ৬০ টাকা বেড়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com